এহসানুল মাহবুব জোবায়ের
সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্টার্টআপ খাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (MENA) অঞ্চলের শীর্ষ প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মাত্র এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে এই অর্জন কৌশলগত সরকারি পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং শক্তিশালী বেসরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থার ফলে সম্ভব হয়েছে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতা শুধুমাত্র প্রযুক্তি খাতেই নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবা, ফিনটেক, লিগ্যালটেক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিভিন্ন খাতেও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াবে। ২০১৫ সালের পর থেকে আমিরাত সরকার ব্যাপকভাবে ডিজিটাল অর্থনীতি ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গঠনের দিকে মনোযোগ দেয়। দুবাই ও আবু ধাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয় HUB71, Dubai Future District এবং Abu Dhabi Global Market (ADGM) এর মতো হাব, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ উদ্ভাবনী স্টার্টআপগুলো কার্যক্রম শুরু করে। সরকারি এবং আধা-সরকারি বিনিয়োগকারী যেমন Mubadala Investment Company, Abu Dhabi Developmental Holding (ADQ), G42, এবং Abu Dhabi Investment Authority (ADIA)—AI, ক্লিন এনার্জি, হেলথটেক এবং স্পেস টেক খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প চালু করেছে।
দেশটিতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভিসি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এই বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে। উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- BECO Capital- যারা Careem ও Kitopi-এর মতো সফল স্টার্টআপে বিনিয়োগ করে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে নেতৃত্ব দেয়, Wamda Capital- সামাজিক উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় কার্যকর, Middle East Venture Partners (MEVP)- যারা প্রযুক্তিনির্ভর ৫০টিরও বেশি উদ্যোগে বিনিয়োগ করেছে, Shorooq Partners- Web3 এবং ফিনটেক সেক্টরে বিশেষায়িত, Global Ventures- স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতে কেন্দ্রভিত্তিক বিনিয়োগে দক্ষ, 500 Falcons- বিশ্বখ্যাত 500 Startups-এর MENA শাখা। এছাড়াও তাদের সঙ্গে আছে DTEC Ventures, HUB71 Ventures এবং VentureSouq-এর মতো প্রতিষ্ঠান, যারা প্রাথমিক স্তরের স্টার্টআপে ফান্ড সরবরাহ করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক গ্রুপগুলো এখন স্টার্টআপ বিনিয়োগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: Al-Futtaim Group- যারা Toyota ও IKEA-এর স্থানীয় অপারেটর এবং এখন প্রযুক্তি খাতে বিশাল বিনিয়োগ করছে, Majid Al Futtaim Holding, স্মার্ট শপিং ও ই-কমার্সে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, Al Habtoor Group- যারা হোটেল ও রিয়েল এস্টেটে দীর্ঘদিন ধরে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং এখন ক্লাইমেট টেক ও ট্যুরিজমটেকে বিনিয়োগ শুরু করেছে, Gargash Group এবং Al Naboodah Group- গাড়ি, নির্মাণ এবং আর্থিক খাতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনে আগ্রহী, Al Ghurair Group ও Al Rostamani Group- ক্লাউড সলিউশন, সফটওয়্যার কোম্পানি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স স্টার্টআপে বিনিয়োগ করছে। এই পরিবারগুলো আরবের মূলধারার ব্যবসার পাশাপাশি পারিবারিক ব্যবসার মাধ্যমে প্রযুক্তি খাতে প্রবেশ করেছে।
AI, GreenTech, এবং SpaceTech-এ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দেশটি একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। Techstars Dubai, International Finance Corporation (IFC) ও Rise Capital এর মতো আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের উপস্থিতিও এই উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করেছে।
বিশ্ব ব্যাংক বলছে, ২০২৫ সালের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রযুক্তি খাত মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার জিডিপি-তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ১০০ বিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ বিনিয়োগ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক কৌশলের প্রতিচ্ছবি। এই বিনিয়োগে দেশটি এখন শুধু একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র নয়, বরং বৈশ্বিক উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির গেটওয়েতেও রূপ নিচ্ছে আরবেরা।
এএমজে






















