লোহিত সাগরে উত্তেজনার কারনে ২০২৪ অর্থবছরে মিশরের সুয়েজ খালের রাজস্ব হ্রাস পেয়েছে ৬০ শতাংশের মতো, যার পরিমাণ সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গাজার ওপর ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কার্যক্রমের ফলে সুয়েজ খালের রাজস্বে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ইসরায়েলের দিকে পণ্যবাহী জাহাজের ওপর হুথি বিদ্রোহীদের হুমকি লোহিত সাগরে বাণিজ্যের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে প্রায় ১০০টির বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তারা জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ না হলে এই হামলা অব্যাহত থাকবে।
ইসরায়েলের যুদ্ধ গাজায় ৪৫,৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং কমপক্ষে ১০৭,৯৪০ জন আহত হয়েছে। হুথি বিদ্রোহীরা বলছে, ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ হলে তারা হামলা বন্ধ করবে। এর ফলে, অনেক শিপিং কোম্পানি তাদের জাহাজগুলো সুয়েজ খাল এড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে পণ্য পরিবহন করছে। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের ১২ শতাংশ পরিচালনাকারী এই খাল মিশরের বিপর্যস্ত অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও চলমান বিশ্ব অস্থিতিশীলতা মারাত্মক প্রভাব ফেলছে মিশরের অর্থনীতিতে।

লোহিত সাগরের বাণিজ্য ব্যাঘাত মিশরের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ইতোমধ্যেই মিশর ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, মুদ্রার দরপতন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় লক্ষ লক্ষ মিশরীয় চরম সংকটে পড়েছে।
তারই সাথে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর মিশরের স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির অবস্থানও নড়বড়ে হয়ে উঠেছে। সিসি সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে নিজেকে রক্ষা করে বলেছেন, “আমার হাতে কারও রক্ত নেই, আমি কারও অর্থ চুরি করিনি।”
তবে তার শাসনামলকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সবচেয়ে দমনমূলক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মিশরের কারাগারে বর্তমানে ৬৫,০০০ এরও বেশি রাজনৈতিক বন্দী রয়েছে। জোরপূর্বক গুম এবং নির্যাতন এখানে রাষ্ট্রনীতির অংশ হয়ে উঠেছে।
এএমজে





















