গাজায় ইসরাইলী পৃথক বিমান হামলায় বৃহস্পতিবার ভোরে পাঁচজন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
গাজার জেইতুন এলাকায় একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে বলে মেডিক্যাল টিম জানিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
অপরদিকে, মধ্য গাজার নুসাইরাতের আল-আওদা হাসপাতালের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় পাঁচজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজা হেলথ অথরিটির মেডিক্যাল টিম। নিহত সাংবাদিকরা আল-কুদস আল-ইয়াওম টেলিভিশন চ্যানেলের হয়ে কাজ করতেন।
ফিলিস্তিনি মিডিয়া এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেছেন, গাড়িটিতে প্রেসের লোগো ছিল এবং সাংবাদিকরা হাসপাতাল ও নুসাইরাত ক্যাম্প থেকে সংবাদ সংগ্রহে এটি ব্যবহার করতেন।
অপরদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের বিমান বাহিনী গাড়িটিতে পূর্বপরিকল্পনামাপিক হামলা চালিয়েছে, কারণ গাড়িতে ইসলামিক জিহাদের সদস্যরা ছিলেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৪৫,৩৬১ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।এই অভিযান গাজার ২৩ লক্ষ মানুষের মধ্যে ২০ লক্ষাধিক মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। তীব্র শীতকালের ঠান্ডা ও ভেজা আবহাওয়ার মধ্যে হাজার হাজার মানুষ উপকূলীয় এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পে বসবাস করছে।
এই দিকে গত বুধবার, হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করেছে, যদিও সম্প্রতি উভয় পক্ষের অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, পক্ষগুলো কয়েক মাসের মধ্যে একটি চুক্তির কাছাকাছি যাবে বলে মনে হচ্ছে, ঐ চুক্তির ফলে আটক অনেক বন্দিকে মুক্তি দিতে পারে।
ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই চুক্তি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করলেও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার, বন্দিদের মুক্তি এবং বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে বলে আলোচনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
এইদিকে হামাস বুধবার অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার, বন্দিদের মুক্তি এবং বাস্তুচ্যুতদের ফেরার বিষয়ে নতুন শর্ত যোগ করছে, যা চুক্তি বিলম্বিত করছে। ইসরায়েলি সরকার হামাসের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে হওয়া সমঝোতার শর্ত থেকে পিছিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে। তবুও উভয় পক্ষ বলেছে, আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এএমজে





















